পারভেজ এম রবিন ( ক্লান্ত কালবৈশাখি ) এর সকল গল্প, কবিতা, ব্লগপোস্ট একসাথে...
এবারের মত বিশ্বাস করে নাও
Get link
Facebook
X
Pinterest
Email
Other Apps
-
#২
না হয় এবারের মত বিশ্বাস করে নাও, যদি এই দুটো হাত ধরে_ হেঁটে চল অতীশ দীপঙ্কর সড়ক ধরে, চন্দ্রালোক আলো হয়ে নয়, সতেরই শ্রাবনের জল হয়ে, ভিজিয়ে দেবে তোমার চিবুক। হলুদ সোডিয়াম আলোয় ফুটপাত ধরে চন্দ্রালোকে ভিজে হাঁটবে কী?
(১) -এখন কোথায় তুই? :ফেরিতে। পদ্মায়। -কী করছিস? :স্বর্ণাপুর বকর বকর শুনছি। প্যানপ্যান করে কান ঝালাপালা করে দিল আমার। -হা হা হা। শুনতে থাক। :হাসবি না একদম বলে দিলাম। আমার জ্বালা আমি বুঝতেছি। -পিচ্চি, তোকে একটা কথা বলি? রাখবি? :হঠাৎ সিরিয়াস হয়ে গেলি! কী হয়েছে? বল। আমার বুড়িপুর কথা আমি রাখব না, এ হতে পারে? -রাতে অন্তত ওখানে... :আবার শুরু করলি! তোকে বলেছি না, এসবে আমার এক ফোঁটা বিশ্বাস নেই। তাই আমাকে এসব বলেও লাভ নেই। রাখলাম। বাই। -খোদা হাফেজ। (২) আমি যে বাড়িতে আছি, সেটা আমাদের গ্রামে তো বটেই আশেপাশের দশ গ্রামে মোটামুটি প্রখ্যাত বাড়ি। ভাল কোন কারণে খ্যাতি না। পোড়া বাড়ি হিসেবে খ্যাতি। সহজ ভাষায় বললে ভুত প্রেত সমৃদ্ধ বাড়ি। একটা ভূতের সাথে এক রাত গল্প করার শখ আমার অনেক দিনের সেই সুবাদেই এখানে আসা।
নিযুত বছর আগে এক শ্রাবণ-সংক্রান্তির রাতে আমাকে একটা মেঘ ধরিয়ে দিয়েছিল শ্রাবন্তিকা। কাজলের মত; কুয়াশার মত; নির্বোধ-মত একটা মেঘ। আমি মেঘটা ধরলাম। উল্টে পাল্টে দেখলাম। আঙ্গুল গলে গড়িয়ে পড়ছে দেখে — “সুন্দর হয়েছে” বলে আমি চুপচাপ মেঘটা সাতটি তারার তিমিরে পুরে রেখেছিলাম। মেঘটা গুটিসুটি করে চুপচাপ বইয়ের ভাঁজে পড়ে ছিল। মেঘটা। শ্রাবন্তিকার দেয়া আরও হাজারও উপহারের মত মেঘটার কথাও আমি ভুলে গিয়েছিলাম। আজ সন্ধ্যায় শেলফ খুলতে গিয়ে হঠাৎই শুনি প্রবল বর্জ্রপাত। জিউস আর থরের যুদ্ধে আমার কিছু করার নেই ভাবনায় — আমি শেলফটা খুলতেই চমকে উঠি। বইয়ের প্রতিটি তাক মরুভূমি আর প্রবল খরতাপে পুড়ে গেছে প্রতিটি অক্ষর। মরিচিকার ধোঁয়ার সাথে তাল মিলিয়ে ওপরে তাকাতেই দেখি — মেঘটা। আমি চোখ বন্ধ করে ফেলি; যেমন করে চোখ বন্ধ করে ফেলছি প্রতিদিন। আমি দেখতে চাই না — আমার সব গল্প পুড়ে গেছে। আমার সব বাক্য পুড়ে গেছে। আমার সব শব্দ পুড়ে গেছে। আমার সব অক্ষর পুড়ে গেছে। সেই পোড়াভূমিতে মরিচিকার ছায়া হয়ে আছে — মেঘটা। অভিমানের মত ছোট্ট মেঘটা — বইয়ের ভাঁজে যাকে নিমিষেই লুকিয়ে রাখা যেত; সে ঘৃণার মত বিস্তৃত হয়ে ঢেকে রেখেছে আমার সবখানি।...
মোটামুটি চৌদ্দটা বছর তার সাথে আমার পরিচয় ছিল দু’টো লাইন দিয়ে। বল বীর বল উন্নত মম শির। কবিতার চেয়ে আড্ডাবাজিতেই বেশি আগ্রহ থাকায় আর সামনে এগোনো হয় নি। চট্টগ্রাম থেকে আব্বু ট্রান্সফার হয়ে ঢাকায় আসায়, ক্লাস নাইনে চলে এলাম ঢাকায়। কৈশোরের উচ্ছ্বলতার পাট চুকিয়ে খানিকটার ধীমান হতে শিখেছি। কীভাবে কীভাবে যেন কবিতা লেখার অভ্যাস হয়ে গেল(কারও প্রেমে পড়ি নাই কইলাম!) লিখতে গিয়ে ভাল মতই টের পাচ্ছিলাম, কবিতা না পড়ে লেখা যায় না। তখন আবার নতুন নতুন আস্তিকতায় ‘রিভার্ট’ করেছি। ধর্মানুভূতি(!) তখন তুঙ্গে। কাফের মুরতাদ(?) রবিঠাকুরের কবিতা পড়া আমার সাজে না। তাই নজরুলকেই আঁকড়ে ধরলাম।
Comments
Post a Comment