পারভেজ এম রবিন ( ক্লান্ত কালবৈশাখি ) এর সকল গল্প, কবিতা, ব্লগপোস্ট একসাথে...
অশ্রু #১ #২
Get link
Facebook
X
Pinterest
Email
Other Apps
-
#১
আমি
তোমার চোখের এক ফোঁটা জল হব।
যেই
জলে তুমি বালিশ ভেজাও;
আর
যতটুকু রাখো টলমলে চোখে_
আমি
সেই অতলের এককোণে পড়ে রব।
#২
অশ্রুজল,
হলে কতটা অতল;
অসীমের সীমানায়_
সম্মোহনে ডুব দেয়া যায়।
#৩
আমি নিশ্চিত করে বলতে পারি, সে জল রংহীন
ঠিক যেই রংয়ে তুমি কাঁদো;
ঠিক যেই রংয়ে তুমি হাজার বছর ধরে,
শ্বেতপদ্মে ধ্যান করে করে করে,
অশ্রুর পদ্মদীঘি গড়েছ আমার জন্য;
আমার চোখের জলও তেমনি রংহীন।
(১) -এখন কোথায় তুই? :ফেরিতে। পদ্মায়। -কী করছিস? :স্বর্ণাপুর বকর বকর শুনছি। প্যানপ্যান করে কান ঝালাপালা করে দিল আমার। -হা হা হা। শুনতে থাক। :হাসবি না একদম বলে দিলাম। আমার জ্বালা আমি বুঝতেছি। -পিচ্চি, তোকে একটা কথা বলি? রাখবি? :হঠাৎ সিরিয়াস হয়ে গেলি! কী হয়েছে? বল। আমার বুড়িপুর কথা আমি রাখব না, এ হতে পারে? -রাতে অন্তত ওখানে... :আবার শুরু করলি! তোকে বলেছি না, এসবে আমার এক ফোঁটা বিশ্বাস নেই। তাই আমাকে এসব বলেও লাভ নেই। রাখলাম। বাই। -খোদা হাফেজ। (২) আমি যে বাড়িতে আছি, সেটা আমাদের গ্রামে তো বটেই আশেপাশের দশ গ্রামে মোটামুটি প্রখ্যাত বাড়ি। ভাল কোন কারণে খ্যাতি না। পোড়া বাড়ি হিসেবে খ্যাতি। সহজ ভাষায় বললে ভুত প্রেত সমৃদ্ধ বাড়ি। একটা ভূতের সাথে এক রাত গল্প করার শখ আমার অনেক দিনের সেই সুবাদেই এখানে আসা।
নিযুত বছর আগে এক শ্রাবণ-সংক্রান্তির রাতে আমাকে একটা মেঘ ধরিয়ে দিয়েছিল শ্রাবন্তিকা। কাজলের মত; কুয়াশার মত; নির্বোধ-মত একটা মেঘ। আমি মেঘটা ধরলাম। উল্টে পাল্টে দেখলাম। আঙ্গুল গলে গড়িয়ে পড়ছে দেখে — “সুন্দর হয়েছে” বলে আমি চুপচাপ মেঘটা সাতটি তারার তিমিরে পুরে রেখেছিলাম। মেঘটা গুটিসুটি করে চুপচাপ বইয়ের ভাঁজে পড়ে ছিল। মেঘটা। শ্রাবন্তিকার দেয়া আরও হাজারও উপহারের মত মেঘটার কথাও আমি ভুলে গিয়েছিলাম। আজ সন্ধ্যায় শেলফ খুলতে গিয়ে হঠাৎই শুনি প্রবল বর্জ্রপাত। জিউস আর থরের যুদ্ধে আমার কিছু করার নেই ভাবনায় — আমি শেলফটা খুলতেই চমকে উঠি। বইয়ের প্রতিটি তাক মরুভূমি আর প্রবল খরতাপে পুড়ে গেছে প্রতিটি অক্ষর। মরিচিকার ধোঁয়ার সাথে তাল মিলিয়ে ওপরে তাকাতেই দেখি — মেঘটা। আমি চোখ বন্ধ করে ফেলি; যেমন করে চোখ বন্ধ করে ফেলছি প্রতিদিন। আমি দেখতে চাই না — আমার সব গল্প পুড়ে গেছে। আমার সব বাক্য পুড়ে গেছে। আমার সব শব্দ পুড়ে গেছে। আমার সব অক্ষর পুড়ে গেছে। সেই পোড়াভূমিতে মরিচিকার ছায়া হয়ে আছে — মেঘটা। অভিমানের মত ছোট্ট মেঘটা — বইয়ের ভাঁজে যাকে নিমিষেই লুকিয়ে রাখা যেত; সে ঘৃণার মত বিস্তৃত হয়ে ঢেকে রেখেছে আমার সবখানি।...
(১) ঠাস! শব্দটা কি এমনই কিছু হল? বোধ হয় না। বোধ হয়! বেশ ওপর থেকে কিছু পড়লে এমনই কোন শব্দ হওয়ার কথা। তবে, তার সাথে যদি কয়েকটা হাড় ভাঙ্গা আর একটা খুলি ভেঙ্গে মগজ ছিটকে যাওয়ার শব্দ যুক্ত হয়, তাহলে সম্মিলিত শব্দটা অন্যরকম কিছু হওয়ার কথা। বোধ হয়! শব্দটা কেন করলাম আমি? জানা নেই। সবকিছুর কারণ থাকতে হবে, তার কোন কারণ নেই। বোধ হয়, হঠাৎ সাধ জেগেছিল। সাধ মেটালাম। জীবনানন্দের মত করে — কাল রাতে- ফাল্গুনের রাতের আঁধারে যখন গিয়েছে ডুবে পঞ্চমীর চাঁদ মরিবার হ’লো তার সাধ। কাল রাতটা ফাল্গুনের রাত নয়। চৈত্রের। অবশ্য পঞ্চমীর চাঁদ ছিল আকাশে। ডুবে থাকা চাঁদ। মরিবার হল সাধ। কারণ কি সত্যিই ছিল না? কে জানে! জীবনটা আমার কাছে অন্য রকম। জীবন হচ্ছে টুকরো টুকরো ব্যর্থতার সমষ্টি। কখনও কম কখনও বেশি। ব্যর্থতাগুলোর ভাজে ভাজে টুকরো টুকরো হাহাকার লেপ্টে থাকে। ব্যস! এই তো জীবন। কত দারুণ ‘জীবন’! প্রেম ছিল, আশা ছিল — জ্যোৎস্নায়। ধোঁয়া ছিল, চায়ের কাপ ছিল, স্বপ্ন ছিল, মেঘদল ছিল… মানুষের সুদীর্ঘ জীবনকাল কাটিয়ে দেয়ার জন্য ওটুকু যথেষ্ট হবার কথা। আমার হয়নি। চাওয়াটা চিরকালই বড্ড বাড়াবাড়ি রকমের বেশি।...
Comments
Post a Comment