Posts

বাতাসে রুদ্রের গন্ধ

Image
কবিতার সংজ্ঞা দেওয়া খুব কঠিন। যে লেখাটি সমকালের স্মৃতি বা স্বপ্নকে তুলে আনতে সক্ষম এবং একই সাথে সমকালকে অতিক্রমের যোগ্যতা রাখে তাকেই বোধহয় কবিতা বলা যেতে পারে। অবশ্য তা হবে কবিতার অন্যান্য ব্যাকরণের শর্ত সাপেক্ষে। — এভাবেই কবিতার সংজ্ঞা দিয়েছিলেন রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহ। [1] এবং নিজের জীবনে তার নিজের দেয়া সেই সংজ্ঞার প্রতিফলনও ঘটিয়েছেন যথার্থতার সাথেই। একই সাথে তিনি তার লেখায় তুলে এনেছেন সমকালীন স্মৃতি-স্বপ্ন-সাধ। আবার তার কবিতার মূর্ছনাই তার নিজস্ব সময়ের গণ্ডিকে অতিক্রম করে হয়ে উঠেছে সর্বকালীন। মৃত্যুর দুই যুগ পর আজও তাই রুদ্র আছে আমাদের ভেতরে, আমাদের বাহিরে। রুদ্র আছে আমাদের হৃদয় জুড়ে। আনুমানিক উনবিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকে তৎকালীন খুলনা জেলার বাগেরহাট মহকুমার রামপালের জঙ্গল কেটে বাসযোগ্য কর হয়েছে। অত্যন্ত সাহসী ও পরিশ্রমী কিছু মানুষের সদ্য সৃষ্টি জনবসতিটিকে ঠিক গ্রামও বলা যায় না। কাছেই দেশখ্যাত পীর খানজাহান আলীর মাজার। সেখানে প্রায়শই আসতেন তার ভক্ত ধোনাহ খা। পরে সেখানেই বসবাস করা শুরু করেন এবং কালক্রমে বিশাল ভূ-সম্পত্তির অধিকারী হন। পরবর্তীতে তার পুত্র মোংলাই হাজীর মেজো পুত্র শে...

নিকষ

(১) -এখন কোথায় তুই? :ফেরিতে। পদ্মায়। -কী করছিস? :স্বর্ণাপুর বকর বকর শুনছি। প্যানপ্যান করে কান ঝালাপালা করে দিল আমার। -হা হা হা। শুনতে থাক। :হাসবি না একদম বলে দিলাম। আমার জ্বালা আমি বুঝতেছি। -পিচ্চি, তোকে একটা কথা বলি? রাখবি? :হঠাৎ সিরিয়াস হয়ে গেলি! কী হয়েছে? বল। আমার বুড়িপুর কথা আমি রাখব না, এ হতে পারে? -রাতে অন্তত ওখানে... :আবার শুরু করলি! তোকে বলেছি না, এসবে আমার এক ফোঁটা বিশ্বাস নেই। তাই আমাকে এসব বলেও লাভ নেই। রাখলাম। বাই। -খোদা হাফেজ। (২) আমি যে বাড়িতে আছি, সেটা আমাদের গ্রামে তো বটেই আশেপাশের দশ গ্রামে মোটামুটি প্রখ্যাত বাড়ি। ভাল কোন কারণে খ্যাতি না। পোড়া বাড়ি হিসেবে খ্যাতি। সহজ ভাষায় বললে ভুত প্রেত সমৃদ্ধ বাড়ি। একটা ভূতের সাথে এক রাত গল্প করার শখ আমার অনেক দিনের সেই সুবাদেই এখানে আসা।

দ্য লেডি উইথ দ্য ল্যাম্প

Image
১৮৫৪! ক্রিমিয়ার যুদ্ধের দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে হুতাশনের মত। যত্রতত্র আহত সৈনিকেরা ছড়িয়ে আছে। দেখার মত নেই কেউ। ইউরোপে প্রভুত্ব কায়েমের নিমিত্তে রাশিয়ার সাথে ইংল্যান্ড, ফ্রান্স আর ইতালির এই যুদ্ধে যতটা না বিভীষিকা ছড়াচ্ছে যুদ্ধক্ষেত্রে, তার চেয়ে কিছু কম আসছে না হাসপাতালে। আহত সৈনিকদের আহাজারিতে তার বাতাস ভারী হয়ে উঠছে। হাসপাতালের ধারণ ক্ষমতা পার হয়ে গেছে বহু আগেই। তবু, নতুন আহত সৈনিক আশা বন্ধ হচ্ছে না। স্ক্যাটারি (বর্তমান ইস্তানবুলের অন্তর্গত) এর হাসপাতালের অবস্থা তখন এক শব্দে — বিভীষিকাময়! ব্রিটেনের যুদ্ধ বিষয়ক উপদেষ্টা সিডনি হারবার্ট  এর কাছে তখন মনে হল, পুরো ইংল্যান্ডে কেবল এক জনই এই সময়ে সব কিছুর হাল ধরার সক্ষমতা রাখেন — ফ্লোরেন্স নাইটিংগেল ।

রামমোহন রায়: ধর্মকে ছিঁড়ে যুক্তিতে বাঁধলেন যিনি

Image
“আমরা মৃতের বধূ হবার জন্য জীবিত নারীকে নীত হতে দেখেছি।” — অথর্ব-বেদ (১৮/৩/১,৩) “মানুষের শরীরে সাড়ে তিন কোটি লোম থাকে, যে নারী মৃত্যুতেও তার স্বামীকে অনুগমন করে, সে স্বামীর সঙ্গে ৩৩ বৎসরই স্বর্গবাস করে।” — পরাশর সংহিতা (৪:২৮) “যে সতী নারী স্বামীর মৃত্যুর পর অগ্নিতে প্রবেশ করে সে স্বর্গে পূজা পায়।” — দক্ষ সংহিতা (৪:১৮-১৯) “যে নারী স্বামীর চিতায় আত্মোৎসর্গ করে সেতার পিতৃকুল, স্বামীকুল উভয়কেই পবিত্র করে।” — দক্ষ সংহিতা (৫:১৬০) [1] [11] আমাদের, উপমহাদেশ-বাসীদের শিরায়-উপশিরায় প্রতিনিয়তই প্রবাহিত হয় ধার্মিকতার স্রোত। কখনও হাত কেটে গেলে যদি লাল লাল রক্তের পরিবর্তে নীল নীল ধার্মিকতা বেরিয়ে আসে, তাহলে অবাক হবার খুব বড় কোন উপলক্ষ থাকবে না। সেই সব ধর্মকে আমরা গড়ে নিই নিজেদের মত করে। ধর্মগ্রন্থের সাথে আমাদের পালিত ধর্মের কোন সংযোগই থাকে না। তারপর সেই বিকৃত ধর্মকেই পালন করে যাই পরম যতনে। আর যেখানে খোদ ধর্মগ্রন্থসমূহেই রয়েছে এমন বর্বরতার উপলক্ষ — সেটাকে হাতছাড়া করার কোন প্রশ্নই আসে না। আর তাই সমগ্র ভারতবর্ষের মাটি কত জীবিত সতীর মৃত ভস্মকে আলিঙ্গন করল, তার কোন লেখাজোকা ইতিহাসে নেই। নজরুলের মত...

বুলাবু

==== ==== === === === === === === === === শহরটা ছাড়িয়ে যেতেই দু’পাশের ধানক্ষেত থেকে সবুজ ঘ্রাণের একটা বাতাস এসে নাকে ধাক্কা মারল। মনে হল, এই বাতাসে শ্বাস নিয়েই আমি অর্ধেক সুস্থ হয়ে গেছি। দু’দিকে যত দূর চোখ যাচ্ছে গাড় সবুজ রং। সেই রং শেষ হয়েছে দিগন্তে গিয়ে। আবার দিগন্ত থেকেই নীল ছড়ানো শুরু হয়েছে। আম্মু পাশ থেকে বলল, “এখন খানিকটা ভাল লাগছে?” আমি হাসিমুখে বললাম, “অনেকটা।” বলেই বাসের জানালা দিয়ে হড়হড় করে বমি করে দিলাম। নাড়িভুঁড়ি সব যেন পাঁক দিয়ে পেট থেকে বেরিয়ে আসতে চাইল। পেটে যা কিছু ছিল একেবারে বেরিয়ে গেল। আম্মুর দিকে তাকিয়ে ফ্যাকাসে ভাবে হাসার চেষ্টা করলাম। আম্মু বলল, “এই তোর ভাল হবার নমুনা?” বললাম, “ব্যাপার না। বুলাবুর কাছে গেলেই এক্কেবারে ভাল হয়ে যাব।” ==== ==== === === === === === === === ===

এই শহরের আকাশটাতে মেঘ জমেছে

-আসছে? -না এখনও আসে নাই। -আর কতক্ষণ? -আমি কী জানি কখন আসবে? আমি তো চারটা থেকেই দাড়ায় আছি সৌরভের জন্য। -আচ্ছা ঠিক আছে। আমরা সব আছি ৪ নাম্বার রোডে। একুশে একাডেমীর গলিতে। -ঠিক আছে। তোরা আড্ডা দে। ওরে নিয়ে সন্ধ্যার দিকেই আসব। আলো থাকলে ঝামেলা। ফোনটা কেটে দিলাম। রাকিন নিশ্চিত চেতছে। করার কিছু নেই। সৌরভ দেরি করছে, সেটা আমার দোষ না। সময় কাটানোর জন্য কিছু নিয়ে চিন্তা করা যায়। কী নিয়ে? কী নিয়ে? আচ্ছা, সিগারেট চায়ের সাথে খেলে নিকোটিন বেশিরভাগ অংশ চলে যাবে, পাকস্থলীতে। কিন্তু, তাতে পিনিক বাড়ে কেন? কেন বাড়ে তা নিয়ে চিন্তা করার সময় পেলাম না। সৌরভ এসে গেছে। আমার সামনে এসে অনিশ্চিত ভঙ্গিতে দাঁড়াল। জিজ্ঞেস করলাম, “সৌরভ?”

ডাস্টবিনের কবিতা

তেরটি কবিতা আজ ছুড়েছি ডাস্টবিনেতে। একটি কবিতা আজ অফিস-ক্লান্ত হয়ে একটা লাল গোলাপ কিনে ফিরে আসছিল মাধবীলতার তরে। যে মাধবীলতা আজ এক পেয়ালা চা নিয়ে দাড়িয়ে ছিল ও আছে। কবিতাটা আর নেই। আর দুইটি কবিতা শেষ বিকেলের রোদে স্নান শেষে ফিরছিল যে যে যার যার ঘরে। একটুকু ভালবাসা দুইহাতে চেপে ধরে বালক আর বালিকা প্রতিজ্ঞা করেছিল, এই হাত ছাড়বে না। এখনও দুজনকে ধরে আছে দুইজনে। শুধু নেই কবিতারা।