Posts

এই শহরের আকাশটাতে মেঘ জমেছে

-আসছে? -না এখনও আসে নাই। -আর কতক্ষণ? -আমি কী জানি কখন আসবে? আমি তো চারটা থেকেই দাড়ায় আছি সৌরভের জন্য। -আচ্ছা ঠিক আছে। আমরা সব আছি ৪ নাম্বার রোডে। একুশে একাডেমীর গলিতে। -ঠিক আছে। তোরা আড্ডা দে। ওরে নিয়ে সন্ধ্যার দিকেই আসব। আলো থাকলে ঝামেলা। ফোনটা কেটে দিলাম। রাকিন নিশ্চিত চেতছে। করার কিছু নেই। সৌরভ দেরি করছে, সেটা আমার দোষ না। সময় কাটানোর জন্য কিছু নিয়ে চিন্তা করা যায়। কী নিয়ে? কী নিয়ে? আচ্ছা, সিগারেট চায়ের সাথে খেলে নিকোটিন বেশিরভাগ অংশ চলে যাবে, পাকস্থলীতে। কিন্তু, তাতে পিনিক বাড়ে কেন? কেন বাড়ে তা নিয়ে চিন্তা করার সময় পেলাম না। সৌরভ এসে গেছে। আমার সামনে এসে অনিশ্চিত ভঙ্গিতে দাঁড়াল। জিজ্ঞেস করলাম, “সৌরভ?”

ডাস্টবিনের কবিতা

তেরটি কবিতা আজ ছুড়েছি ডাস্টবিনেতে। একটি কবিতা আজ অফিস-ক্লান্ত হয়ে একটা লাল গোলাপ কিনে ফিরে আসছিল মাধবীলতার তরে। যে মাধবীলতা আজ এক পেয়ালা চা নিয়ে দাড়িয়ে ছিল ও আছে। কবিতাটা আর নেই। আর দুইটি কবিতা শেষ বিকেলের রোদে স্নান শেষে ফিরছিল যে যে যার যার ঘরে। একটুকু ভালবাসা দুইহাতে চেপে ধরে বালক আর বালিকা প্রতিজ্ঞা করেছিল, এই হাত ছাড়বে না। এখনও দুজনকে ধরে আছে দুইজনে। শুধু নেই কবিতারা।

অধরা

এ জন্ম বাদ থাক। শুভ্র স্বপ্ন, স্বপ্ন হয়েই থাক। এবং মিলিয়ে যাক কৃষ্ণ গহ্বরে। এক জনমে কতটা একাত্ম হতে পারি? কতটা পৃথক? বড়জোর দুটো হাত ধরব দুজন। যদি খুব বেশি হয়, তোমার হৃদয় বিমূর্ত হয়ে হয়ে একদিন হয়ে যাবে আমার হৃদয়। এরচেয়ে বেশি কিছু, আরও একাত্মতা চাইতে পারি কি? পদার্থবিদ্যার নিয়ম বা অনিয়মে আরও আপন হব কি দুইজনে? জীবন জনমে?

ফেলানী, মায়াকান্না, চিৎকার এবং...

ইরফান সাহেব আজ একটু বেশিই ক্লান্ত। অফিস আওয়ারের পরেও আরও প্রায় ঘণ্টা-খানেক ছিলেন অফিসে। বিশেষ কোন কাজ ছিল না। কিন্তু, আলোচনাটা এমন জমে উঠল, তিনি আর উঠতে পারলেন না। বাসায় ফিরে হাতমুখ ধুয়ে ফ্রেশ হয়ে বেডরুমে ঢুকেই বড়সড় একটা ধাক্কা খেলেন। তার ত্রিশোর্ধ্ব স্ত্রী শামীমা বিছানায় কেঁদে বুক ভাসাচ্ছেন? সাথে সাথে তিনি ব্যস্ত হয়ে উঠলেন, “কী হয়েছে? এভাবে কাঁদছ কেন?” শামীমার কান্না যেন থামেই না। কাঁদতে কাঁদতে তার হেঁচকি উঠে গেল। ইরফান সাহেব আরও ব্যস্ত হয়ে উঠলেন, “আহা! কী হয়েছে, বলবে তো না’কি?” নাকের জল চোখের জল এক করে শামীমা যা বলল তার সারমর্ম হচ্ছে, সে নিয়মিত যে ছয়টা সিরিয়াল দেখত, তার একটার নায়িকা পৃথিলার আজকে হাতে গুলি লেগেছে।

ফেলানী, ভারতীয় পণ্য বর্জন, কিন্তু কেন?

ফেলানী হত্যার প্রহসনমূলক রায়ের পর আমাদের ভারতীয় পণ্য বর্জনের ঘোষণায় অনেক সুশীলের মাঝেই তীব্র চুলকানি দেখা গেছে। ভারতীয় পণ্য বর্জনের সাথে রবীন্দ্রনাথ-জীবনানন্দ-সুনীল এর সাহিত্য বর্জনের কথা বলে ত্যানা পেঁচিয়ে পেঁচিয়ে যারা রীতিমতো মমি তৈরি করে ফেলেছেন, তাদের কাছে বিষয়টি পরিষ্কার করি। আর যারা ফেলানী হত্যার সাথে ভারতীয় পণ্য বর্জনের সংযোগ খুঁজে খুঁজে হয়রান হয়ে গেছেন, তাদের জন্যেও তাদের হয়ে আমি সংযোটা খুঁজে দিচ্ছি। সাহিত্য একটি সার্বজনীন বিষয়। একে কখনই দেশ-কাল-সীমানার গণ্ডি দিয়ে আটকে রাখা যায় না। যায় না বলেই, জোড়াসাঁকোর রবিঠাকুর লেখেন বাংলাদেশ আর  শ্রীলঙ্কার জাতীয় সংগীত । চুরুলিয়ার দুখু মিয়া হন বাংলাদেশ এর জাতীয় কবি নজরুল। জীবনানন্দ দাশের কবিতায় আমরা খুঁজি বাংলার সৌন্দর্য। পশ্চিমবঙ্গের কিংবা বাংলাদেশ এর নয়। আমরা যেমন আমাদের সবচেয়ে বড় অহংকারকে খুঁজি হুমায়ুন আহমেদের "জ্যোৎস্না ও জননীর গল্প" এ ঠিক তেমনি আমাদের শেকড়কে খুঁজি সুনীলের "পূর্ব-পশ্চিম" এ। সবচেয়ে বড় কথা আমাদের সাহিত্য গড়ে উঠেছে এদের নিয়েই। এরা আমাদের সাহিত্যের ও অংশ। কখনই তার ওপর আঘা...

বাংলা কবিতায় ছন্দ ; কিছু প্রাথমিক আলোচনা

আমরা অনেকেই হয়তো করেছি কবিতা আবৃতি। স্কুলের বাৎসরিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে হাত পা নেড়ে নেড়ে আবৃতি করেছি - ভোর হল দোর খোল খুকুমণি ওঠো রে ওই ডাকে জুঁই শাঁখে ফুলখুকি ছোট রে। কিন্তু, কখনও কি খেয়াল করেছি, "ভোর হল" কিংবা "জুঁইশাঁখে" বলার পর নিজের অজান্তেই কিছুক্ষণের জন্য থেমে যাচ্ছি? কেউ কেউ হয়তো করেছি। কিন্তু, বেশিরভাগ এরই অবচেতন মনে ঘটেছে ঘটনাটি। এই থেমে যাওয়া থেকেই ছন্দের শুরু।

নারীর উন্মুক্ত মুখ কিংবা পুরুষের পশ্চাদ্দেশের কথকতা...

প্রায় মাস খানেক আগের ঘটনা। এবারের HSC পরীক্ষার্থীদের একটা গ্রুপে এক ছেলে, “ মেয়েদের পর্দার প্রয়োজনীয়তা এবং অন্যান্য হ্যান ত্যান সিলিং ফ্যান ” নিয়ে একটা জ্ঞানগর্ভ পোস্ট প্রসব করল। আমি সেখানে গিয়ে কমেন্ট ঝাড়লাম, “ তাহারা মেয়েদের উন্মুক্ত মুখমণ্ডল দেখিয়া গেল গেল গেল বলিয়া লাফাইয়া ওঠে। কিন্তু, ছেলেদের উন্মুক্ত পশ্চাদ্দেশও কখনও তাহাদের ভাবান্তর ঘটায় না। ” ব্যাস শুরু হয়ে গেল! চলল তর্কযুদ্ধ। এবং চিরাচরিতভাবেই তাহাদের শেষ কথা ছিল, “ কোরআনে এখানে কী বলা আছে, তা বোঝার সামর্থ্য তোমার নাই। ভাল কোন আলেমের কাছ থেকে এসবের মানে জেনে এসে তারপর কথা বল। ” তবে সেদিনই ঠিক করে রেখেছিলাম, কোরআন বোঝার মত জ্ঞানগরিমা না থাকলে এতদসম্পর্কিত কথাগুলো নিয়ে একটা ব্লগপোস্ট লিখব। আমার মহিমান্বিত পিসির সুবাদে এতদিন লেখা হয়নি। আজকে আলসেমি ফেলে শুরু করেই দিলাম।