Posts

আমি ভালবাসতে জানি

আমি তোমায় ভেবেছিলাম মহনীয় কিছু আমি অতি - সাধারণ আমি মুগ্ধ - বিস্ময়ে চেয়ে দেখতাম তোমায় মন্ত্রাহুতের মত শুনতাম তোমার কথা আমার দু ’ চোখ ফেটে কান্না আসত অজস্র সভা - সেমিনারে তোমার বক্তৃতা শুনে আমি আপ্লুত হতাম বুঝতে চেষ্টা করতাম তোমার মহত্ত্ব ভেবেছিলাম পথের ওই করুণ মুখগুলোকেই তুমি আপনজন ভাব দুঃখিত ! তোমায় চিনতে পারিনি !

আমি ঘুমিয়ে গেছি, মা!

আমার ওপর তোমার অনেক রাগ? আমি তোমার দস্যি ছেলে! বড় আদরের পাগল ছেলে! বড় অবাধ্য। তুমি কত বারণ করলে আমায়; আমি ফিরলাম না। আমি প্রথমবার তোমার অবাধ্য হলাম। অনেক রাগ করেছিলে আমার ওপর? আমি জানি, বিশ্বাস কর, আমি তোমায় কষ্ট দিতে চাইনি।

ততটাই ভালবাসি তোমায়

ততটাই ভালবাসি তোমায়; যতটা অভিভূত হই, প্রতিটি কাক-ডাকা ভোরে রেললাইনের সরু পথটি ধরে এক অজানা গন্তব্যের পথে হেঁটে যাবার পথে। ততটাই ভালবাসি তোমায়; যতটা অভিভূত হই, নিকোটিনে আচ্ছন্ন হয়ে ফুটপাত ধরে ফেলা যতশত অনিয়ন্ত্রিত পদক্ষেপে।

একুশে!

হয়তো দিনটা ছিল আর দশটা দিনের মতই; পার্থক্য, ওরা প্রতিবাদকে করতে চেয়েছিল শৃঙ্খলিত; পার্থক্য, এই দিনটাতে সাড়ে চার কোটি আত্মা তার ভাষার প্রতি, তার মায়ের প্রতিটি ধ্বনির প্রতি, যেটুকু ভালবাসা রুদ্ধ করে রেখেছিল অন্তহীন কারায়- তারা হৃদয়ের লৌহকপাট বিচূর্ণ করে প্রস্ফুটিত হয়- শ্বেত-পদ্মেরন্যায়। যা প্রতিটি বাঙালিকে ধাবিত করেছিল, মৃত্যুভয় উপেক্ষা করে চিরন্তন স্বাধীনতার পথের অভিযাত্রিক হতে।

বিক্ষোভ

কয়েকটি মুহূর্ত; তারপর দিন, তারপর সপ্তাহ-মাস-বছর ক্ষোভগুলো ধীরে ধীরে জমে উঠতে থাকে। বিন্দু বিন্দু জলকণার মত ক্রমাগত হয়ে ওঠে এক জলধি তার উন্মাতাল স্রোতের বিক্ষোভ সহসা আছড়ে পড়ে রাজপথের প্রতিটি উত্তপ্ত পিচে লাল সমুদ্রজলে আচ্ছাদিত হয় গোটা শোষক-যন্ত্র। স্লোগান আর স্লোগানে উন্মাতাল! কখনও স্রোতের প্রবাহ বিধ্বংসীর মত এগিয়ে চলে। কখনও বা বাধ। কখনও পথ আগলে দাড়ায় পিশাচের দল।

পিশাচ

বিচার কি ওরা করেছিল? কাঠগড়ায় দাড়িয়ে প্রমাণ হাজির করেছিল আমাদের বিরুদ্ধে? ক্রমাগত কাঠফাটা রোদে, রাজপথের ধারে দাড়িয়ে ওরা কি বিচার দাবি করেছিল, এই বাংলার অসহায় মানুষগুলোর? করেনি। ওরা এক অবিশ্বাস্য নির্মমতায়, নিজের ভাইকে নিজ হাতে খুন করছিল। হ্যাঁ, ওরা খুনি। ওরা শকুন। ওরা পশু। ওরা পশুরও অধম। ওরা পিশাচ।

বৃষ্টি বলেছে আসবে

বৃষ্টি বলেছে আসবে? সে আসবে? তবে আসুক না। এক জোড়া ভেজা নীলিমাচারী কপোতের ডানা ভিজিয়ে দিয়ে , সেই ডানা থেকে ঝাপটানো নীল শিশিরের জলে, কচু-পাতাদের টলটলে জলে আশ্রয় করে, শব্দ বলেছে ভাসবে? সে ভাসবে? তবে ভাসুক না। নীল মেঘাচ্ছন্নে আচ্ছন্ন হয়ে, ময়ূরের বর্ণিল পেখমের নৃত্য; বৃষ্টি আনমনে দেখবে নৃত্য-সুখ? তবে সে আসুক।